Wednesday, 29 October 2014

২৫শে বৈশাখে


                                                                                   সায়ন্হর ডাইরী থেকে

২৬শে বৈশাখ,

   রেডিওটা আজ জ্বালিয়ে মারছে, সকাল থেকে শুধু প্রেমের গান। তার ওপর একটা নাছোরবান্দা কোকিল সমানে ডেকে চলেছে সন্ধে থেকে। চাঁদের আলো আজ সুগন্ধের মত ভরিয়ে দিয়েছে অর্ধেক পৃথিবী। হাওয়ার উথাল- পাথাল  আদরে শহরের skyscraper গুলোর চোখের ঘুম গেছে উড়ে। প্রেমিক রেডিও, পাগল কোকিল,মাতাল হাওয়া আর পূর্নীমার চাঁদ। নাঃ এযাত্রা আর বাঁচবনা মনে হচ্ছে।

                               সিগারেটের ৩ নম্বর ফাঁকা প্যাকেটটা পরে আছে পাশে। গলা শুকিয়ে কাঠ। আয়নায় নিজের খুঁতগুলো খুঁটিয়ে দেখেছি অনেক্ষন, উঁহুঁঃ কোনো চান্সই নেই।

            আজ মন খুব অস্থির। সামনে পরীক্ষা, আর কাল তার "চিত্রাঙ্গদা" দেখে পড়াশনা সব ডকে উঠেছে। কেন এত হ্যাল্ হ্যালাচ্ছ বাপ, ওনার জন্য তো ছেলে দেখা হচ্ছে। উনিও নিশ্চই মনের আনন্দে সুখস্বপ্ন দেখছেন। আমার যদিও রাগের কোন কারন নেই, তবু ভীষণ রাগ হচ্ছে। শালার রেডিওটাকে মনে হচ্ছে ছুঁড়ে সাত সমুদ্র তের নদীর পারে ফেলে দি। কোকিলটার ঘাড় এবার মটকাবো। ষোলো কলা পুর্ন চাঁদটাকে মনেহচ্ছে ষোলো টুকরো করে ষোলো জায়গায় পুঁতে দি। আর এই হাওয়ার স্যুইচটা যদি হাতের কাছে পেতাম! ভগবানের ঘরে কি শালা লোডশেডিংও হয়না!

                                       বেশ তো ছিলি বাবা নিজের জীবনানন্দ, শঙ্খ ঘোষ, লিটল্ ম্যাগ নিয়ে। বেশ তো চলছিল চায়ের কাপে তুফান, টিউশানির মাইনে পেয়ে নিষিদ্ধ নিয়ম ভাঙার আগুন তরল। একটা ইমম্যাচিওর,নন্-ইন্টেলেকচ্যুয়াল, পুঁচকে মেয়ে,তোর সব আঁতলামো, সব ম্যাচিওরিটি, সব স্বাধীনতা একমূহুর্তে বানভাসী করে দিল!

                     হত শালা পাঁচ-দশ লক্ষ বছর আগেকার ব্যাপার, মাথায় মুগুড় ভেঙে হিঁচড়ে আনতাম ভালবাসা। কিন্তু হায়! সভ্যতার বেড়ি পরেছে আজ পৌরুষের দুহাতে। পাওয়ার ডাইমেসন গেছে উলটে। হাস্য, লাস্য, কটাক্ষ ও আরো বিবিধ প্রহরণ ধারন করে তেনারা আজকাল হাতে মাথা কাটেন।


                                                                                   সাঁজের ডাইরী থেকে

  ২৬শে বৈশাখ,

রেডিওটা কি আজ বেশিই সুরে বাজছে! নইলে এতবার শোনা গানগুলো প্রায় অপার্থীব লাগছে কেন? কোকিলটা বুঝি আজ আমার জন্যই গেয়েছে সারা সন্ধে। আমার সুখই বুঝি আজ ষোলকলা পুর্ন চাঁদ হয়ে আলোকিত করছে পৃথিবী। বাতাস আজ কিসের আনন্দে মেতেছে? ওর নাচও কি দেখতে আসবে কেউ?

                                                          কাল প্রোগ্রামে সায়হ্ন এসেছিল।আমি এক ঝলকের জন্যই দেখতে পাই, তারপড় বোধ হয় লুকিয়ে পরে বোকাটা। সকালে ফোন করে অস্বাধারন,অভূতপূর্ব, অবিস্মরনীয়, অনির্বচনীয়...... উফ কান ঝালাপালা করে দিয়েছে!
                 আচ্ছা হাঁদারাম তুইকি বুঝিসনি, কাল রাতের অস্বাধারন, অভূতপূর্ব, অবিস্মরনীয়, অনির্বচনীয় আমার নাচ শুধু মাত্র তোর জন্য ছিল? কাল চিত্রাঙ্গদা তার সমস্ত ইন্দ্রিয়, সমস্ত স্বত্বা, দিয়ে যে অর্জুনকে খুজছিল সে ফেডেড জিন্স আর পান্জাবী পড়ে আঁতেলের রাজ পোশাকে দাঁড়িয়ে ছিল দর্শকের পিছনের সারিতে।
                            তুই কি জানিস, কাল প্রোগ্রামের পর প্রায় দুঘন্টা দাঁড়িয়ে ছিলাম মেকআপ না মুছে, শুধু তোকে একবার দেখব বলে, শুধু তোর চোখের প্রসংসার দ্যুতি দুচোখ দিয়ে শরীরে নেব বলে।
                        বাড়ি থেকে ছেলে দেখা হচ্ছে নিশ্চই খবর গেছে। কিন্তু এটা কি তুই বুঝিস ভালবাসার জন্য আমি একটা বিয়ের সমন্ধ কেন, প্রয়োজনে পাত্রের হাড় ভাংতেও পিছপা হবনা।
                      ম্যাচিওর্ড, বুদ্ধিদীপ্ত, ইন্টেলেকচুয়াল, পন্ডিতটি যদি একটা ইমম্যাচিওর্ড, বোকা মেয়ের ভালবাসা না বুঝতে পারে তাহলে তার কিসের গর্ব?
              সামনে পরীক্ষা, পড়াশোনা নিশ্চই মাথায় উঠেছে, হাঃ ওরে আঁতেল আমার একটু হাসি একটু কটাক্ষ তোর সব ইন্টেকচুয়ালিটি, সব ম্যাচুইরিটি বানের জলে ভাসিয়ে দিতে পারে। আমার ম্যানিকিওর করা আঙ্গুলের ছোঁয়ায় গুলিয়ে যায় তোর সব বুদ্ধিদীপ্তি। তোর বাহু বলে গর্বে ফোলানো বেলুন আমার আই লাইনারের এক খোঁচায় চুপসে যায়। বুনো ঘোড়াকে বশ করার মন্ত্র মেয়েরা যে গর্ভ থেকে শিখে আসে।


[এটা একটা গল্প তাই একটা গল্পের হাওয়া, গল্পের গেছো গোড়ুর মত হাওয়া আরকি, সাঁজের ডাইরীর এই পাতা টা উড়িয়ে নিয়ে ফেলে সায়হ্নর কাছে]



                                                                  সায়হ্নর ডাইরী থেকে

২৭শে বৈশাখ,

      হে রেডিও, হে কোকিল, হে চাঁদ, হে বাতাস। আজ সবাইকে ক্ষমা করলাম। হে রেডিও তোমার সস্তা রোম্যান্টিসম আজ ক্ষমা করলাম। হে কোকিল তোমার সারা সন্ধের বাউল গান আজ ক্ষমা করলাম। হে চাঁদ তোমার নির্লজ্জ আলোকোচ্ছাস আজ ক্ষমা করলাম। হে বাতাস তোমার মাতাল নাচন আজ ক্ষমা করলাম। হে বেলতলা স্পোর্টিং এর মারকুট্টা ডিফেন্ডার তোকেও ক্ষমা করে দিলাম আজ শেষ বারের মত। শুধু একটা ব্যাপারেই আমি ক্ষমা প্রার্থী নিজের কাছে। আজও আমার পড়তে বসা হলনা।
             

                                                                   




Thursday, 23 October 2014

কেরানি ও নিহিলিস্ট

                                                                      ১

Resignation টা দিয়েই বুঝলাম আমি উড়তে পারি!
অতয়েব technopolis এর ৮ তলা থেকে takeoff করে উড়তে উড়তে বাড়িতে এসে ল্যান্ড করলাম।

    মাকে বল্লাম" সোয়েটার-ফোয়েটার যা আছে ঝট করে বার করে দাও।"

    বাবাকে বল্লাম" রতন টাটার বাপের সাধ্যি নেই রানা বাঁড়ুজ্জেকে রোজ ১০ ঘন্টা অফিসে আটকে ২৫০ টা করে call নেওয়াবে। আমি চল্লাম দার্জ্জিলীং, পয়সা ফুড়লে ফিড়ব।"

তারপড় রুকস্যাক গুছিয়ে বাইকে start দিলাম।
যদিও আমি এখন উড়তে পারি, কিন্তু কি দরকার বাবা! কেউ যদি আবার বাড়িতে গিয়ে "ছেলে তো খুব উড়ছে আজকাল" বলে লাগায়। একেই খচে আছে লোকজন।

বাড়ি থকে যখন start করি তখন দুপুর ৩টে, অতঃয়েব মালদা পৌছতে পৌছতেই বেশ রাত হয়ে গেল। সেখানকার বিখ্যাত ধাবার প্রখ্যাত তড়কা আর রুটি খেয়ে মালের খোঁজ করতে শুনলাম, শুধু বাংলা পাওয়া যাবে, বিয়ার-ফিয়ার সব শেষ।

-"যা গড়ম পড়িসে স্যার, তার ওপড় মামাদের ঘন ঘন রেড। এক কেরেট সিল তা একটু আগে উনাদের নৈবেদ্য করি দিসি।"

  সারে তিনশ কিলোমিটার মটরসাইকেল ঠেঙিয়ে এসে বাংলু প্যেঁদালে এই আত্মবিক্ষণ tragedy তে পর্যভুষিত হতে পাড়ে বুঝে শোয়ার ব্যবস্থা দেখি।

                      ধাবার পিছনে ছোট্ট এক ফালি উঠন, তারপড়ই ধাণ ক্ষেত শুরু হয়েগেছে। চার পাশের চাপ্ চাপ্ জমাট বাঁধা অন্ধকারের মধ্যে একটি মাত্র ৪০ ওয়াটের ল্যাংটো বাল্ব যথাসাধ্য অন্ধকার দূরীকরণ মানসে আক্লান্ত। উঠনে ৪-৫টা খাটিয়া পাতা, তারই একটায় odomos মেখে লম্বা দিলাম। হাঁটুথেকে ঠ্যাংদুটো খাটিয়ার বাইরে ঝুলে থাকল। হোল নাইট ধাবার বাসনের টুংটাং,যাত্রিদের চেঁচামেচি, বাস লরীর শব্দ মৃদু স্বপ্নের মত কানে আসতে লাগল। বোধহয় ঘুমিয়েই পড়েছিলাম,কিন্তু হটাৎ খুব চেনা, প্রান কাড়া একটা গন্ধ নাকে আসতেই চটকা ভেঙে যায়।

                পাশের খাটিয়ায় দেখি ধুম্রজটাজালে আচ্ছন্য দেবাধিদেব স্বয়ং! এক মুখ জঙ্গুলে দাড়ি। যদিও ক্যালেন্ডার-ফ্যালেন্ডারে তাঁর স্ন্যাপসট্ যা দেখেছি সবেতেই তিনি ক্লিন-সেভড্ কিন্তু সেটা অবাস্তব, কৈলাশে নাপিত কোথায় পাবেন? তাইতো মাথায় জটা। যদিও এনার মাথায় জটা নেই, চ্যাপটা army-cap.
পড়নে....... নাঃ বাঘছাল নয়,পুড়োনোটা ছিঁড়ে গিয়ে বোধহয়, নতুন আর করাননি।
আহা ২৫৮৫টা মাত্র বেঁচে। তাই তেলচিটে ময়লা t-shirt আর ততধিক ময়লা থ্রি- কোয়াটার। গলায় সাপ-টাপও দেখলাম না, ম্যানোকা গান্ধীর হুড়ো আছে তো। তবে হস্তে একমেবঃদ্বীতিয় অভিজ্ঞাণ, ৮ আঙুল লম্বা ছিলিম। পিট্ পিট্ করে তাকাতে দেখে বল্লেন-
- "কি-ইইই চলে?"
বোম্-ভোলে! কোন শালা বলে তুমি নেই! তড়বড়িয়ে উঠে বসি।
-  "চলে মানে! দৌড়য় মশাই! একটু নেশা না করলে এই নারকীয় খাটিয়ায় ঘুম আসে!?"
মুচকি হেসে ছিলিম টা এগিয়ে দিয়ে বল্লেন-"গাড়ি টা বুঝি তোমার? তা কোত্থেকে আসা হচ্ছে?"
লম্বা-আ-আ দুটো টান দিয়ে বল্লাম "চন্দননগড়।"
- যাবে কদ্দুর?
- দেখিই, ইচ্ছা তো আছে দর্জ্জীলিং।
- bravo! ধক্ আছে। উদ্দেশ্য কি? বেড়ানো?
- বলতে পাড়েন। আসলে একটু isolation এর প্রয়োজন।
- একাকিত্ব চাও তো দার্জ্জীলিং কেন? সেখানে তো পচা ঘায়ে মাছির মত ভিন্ ভিন্ করছে tourist, শালার গড়ম একটু পড়ল কি পড়লনা চল্ল বাঁড়া বাঙালী গাঁড় তুলে দার্জ্জীলিং। fucking cancer!

এ-হে-হে-হে ভূত-প্রেতের সঙ্গে মিশে মিশে মুখের ভাষাটা একটু ইয়ে হয়ে গেছে।বল্লাম-
- আসলে কিছু ঠিক্ করে বেড়ইনি। পাহাড়ে কোথাও যাওয়ার ইচ্ছে হল, তাই ভাবলাম দার্জিলিং......
- হুম্! A bohemian soul, in a need for isolation. Quest?

             Quest?... প্রশ্নটা অনেকক্ষন ধরে চেতনার রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঘুড়তে লাগল। Quest?..... দিনের পড় দিন একটা ৪`ফুট বাই ৪`ফুট cubicle এ দিনে ১০ ঘন্টা করে আত্মার বেশ্যাবৃত্তি, আর সপ্তাহায়ান্তে নেশায় ডুব। নিজের অস্তিত্ব ভোলার চেষ্টা করতে করতে একদিন কবে যেন সত্যিই ভুলেগেছি। চামড়ায় কেটে বসা দাসত্বের লাগাম, অপমানের চাবুক, দৈনিক পৌনঃপৌনিকতায় স্বীয়স্বত্ত্বা বিষাক্ত পুঁজরক্তে ভরে গ্যাছে। আরোগ্য চাই প্রভু, আরোগ্য। কিন্তু বলতে গেলে বড্ড নাটকীয় শোনাবে যে।

             রুকস্যাকের ওপড় মাথাটা এলিয়ে দি। stimulated, cannabinoid receptor সারা দিনের যাত্রার ক্লান্তি, কোমড়ের ক্র্যাম্প, ছাড়পোকার কামড়, মশার গুনগুন, পচা সারের গন্ধ, সব অনুভুতি আস্তে আস্তে নিবিয়ে দিতে থাকে। তারপড় আলোটাও নিবিয়ে দেয় কেউ। পাশের খাটিয়ায় ছিলিমের আগুন মস্ত জোনাকির মত জ্বলতে নিবতে থাকে। রাতের তারা রা তাকে সঙ্গ দেয়।

                                                                             ২

  সকালে break fast  এর সাথে একটা সাদা খাম এল।
- টেরেকার বাবু দিয়ে গেসেন।
- কে ট্রেকার বাবু!
- উই যে দাড়িওলা, কাল রেতে খাটিয়া ভাড়া নেয়েসিলেন। ভোর বেলাই বাস পেয়ে গেলেন, তাই আমারে বলে গেলেন আপনারে এটা দিয়ে দিতে।
- ট্রেকার কি করে বুঝলে?
- পিঠে ধুমসো ব্যাগ, হাতে লাঠি, টেরেকারই তো মনে লাগল।
breakfast  সেরে বিল আনতে বলে খাম টা খুল্লাম। মুখ বন্ধ ছিলনা। ভেতরে দেখি একটা ম্যাপ! গোচেলা-পাশ এর ট্রেক-রুট। ম্যাপের পিছনে লেখা:

       যদি সত্যিকারের isolation চাও তো ম্যাপ আর গাইডের কার্ড রেখে গেলাম। কি খুঁজছ জানিনা তবে পেয়ে গেলেই কিন্তু মজা শেষ।

ব্যোমকেশ মল্লিক


                             বিল-টিল মিটিয়ে দিনের ৩ নম্বর সিগারেট্ টা ধড়াই। একিরে বাবা! Divine Intervention?
       
                 উচ্চমাধ্যমিকে commerce নিয়েছিলাম। ২বছর ধরে journal, leger,balence sheet, business organisation, business economics, businesses maths,business law....... মননে যেন ঝামা ঘষে গেছিল।শেষ পরীক্ষাটা দিয়ে গঙ্গারধারে এসে বসেছিলাম আমি আর পিকাই। হটাৎ জামা খুলতে খুলতে পিকাই বল্ল "চল ওপারে যাই।"
           ওপারে? এই সন্ধেবেলা? সাঁতরে? এরআগে বড়জোর লাল দিঘি পেড়িয়েছি, গঙ্গা পেরতে গিয়ে যদি দমে না কুলোয়? স্রোতে যদি ভেসে যাই? যদি ঘুর্নীতে পড়ি? আর ওপারে যদি পৌঁছেও যাই, ফিরব কি করে? সাঁতরে যে পরব না তা নিশ্চিত। তাছাড়া ব্যাগ,সাইকেল সব পরে থাকবে, যদি চুরি যায়? জোয়ারে যদি ভেসে যায়? এরকম কোনো প্রশ্ন, কোনো উদ্বেগ মনে জাগার আগেই জলে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম দুজনে।
                      আজ, এই মূহুর্তে, ম্যাপটার দিকে তাকিয়ে, জঙ্গলের বুনো গন্ধ, পাহাড়ের বড়ফ ছুঁয়ে আসা ঠান্ডা বাতাস, পচা পাতার ওপর শিশির পড়ার শব্দ, যেন রক্তে অনুভব করলাম। তারপড় শিলিগুড়ির কলিগ জয়ন্তকে ফোন করলাম।৮-১০ দিনের জন্য বাইক রাখার জায়গা চাই।

                                                                             ৩

এখানে সৃষ্টির মহাসমারোহ। এখনে লেগেছে জীবন কার্নীভাল।এখানে প্রকৃতি অঙ্গে তুলেছে বধূসজ্জা। এখানে প্রকৃতি লাজুক হেসেছে।
               
                  এখানে সূর্য্য, অতৃপ্ত শিল্পীর মত, না না রং রোধতুলি বোলায় সারাদিন বারে বারে। এখানে চাঁদ, নীলাভ আদর ছড়িয়ে দেয় রাতে। আকাশে তারা দের কিংবদন্তী লেখা হয়। প্রতিটি প্রহর দার্শনিক বিস্ময় জাগিয়ে আসে।
               
                   এখানে পৃথিবীর আদিম শৈশব জেগে আছে। বাতাসে জেগে আছে তার বয়ঃসন্ধির যৌন গন্ধ। এখানে সোচ্চার তার যৌবনের উদ্ধত পর্বত নিশান।
 
                      এখানে নৈশব্দ হালে পানি পায়না। সারা দিন সারা রাত অবিশ্রান্ত ঝিঁ ঝিঁ র কোলাহল। যে কোলাহল গভীর নিস্তব্ধতা বুনে চলে। বুনে চলে শব্দ-নৈশব্দের আশ্চর্য প্যারাডক্স।
 
                        এখানে, বিশ্বপ্রকৃতির বন্য জঠরে, আমার দ্বিজত্বে অভিষেক হয়।

                                                                     ৪

ইয়াকসাম থেকে যাত্রা শুরুর পড় আজ তৃতীয় দিন। আজ বিশ্রাম।
                   West Sikkim এর ছোট্ট পাহাড়ী মফঃস্বল  'ইয়াকসাম', গোচেলা ট্রেকের starting point. সেখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা national forest এর মধ্যে দিয়ে হাঁটা পথ শুরু। ম্যাপ অনুযায়ী প্রথম stoppage সাচেন। তারপড় বাখীম্, ছোকা, ফেডাং, জোংড়ী, কোক্চুরাং, থানসিং, লেমুনে হয়ে গোচেলা পাশ। নাম গুলো কানে গীতিরস সৃষ্টি করলেও পথ বেশ দুর্গম। যাতায়াত মিলিয়ে প্রায় ৯ দিনের রাস্তা এবং এই পুরো রাস্তায় জনবসতি বলতে প্রায় ৪৪০০ মিটার উচ্চতায় ছোট্ট গ্রাম 'ছোকা'।সেখানেই প্রথম রাত্রিবাস। পড়দিন পাহাড়ী রাস্তায় ফেডাং হয়ে জোংড়ী। যাত্রা শুরুর দিক কার পাইন-ফারে ভরা ট্রপিকাল অরন্য উচ্চতা বাড়ার সঙ্গ সঙ্গে পাতলা হতে শুরু করে ছিল। এই রাস্তায় শুধু ফুলে ছেয়ে থাকা রডোডেনড্রনের ঝোপ। সে ফুলের সৌন্দর্য বর্ননা করতে গেলে অক্ষমতার ঢোক গিলতে হবে। স্বয়ং রবীন্দ্রনাথও শ্রেফ "রডোডেনড্রন গুচ্ছ" শব্দঝংকারের ওপর ভরসা করেই থেমেছিলেন। আমিও থামলাম।
       
         জোংড়ী-টপের উপত্যকা দিয়ে সরু একটা নদী বয়ে গেছে, তার একটু তফাতেই ট্রেকার্স-হাট।কিন্তু নিরবিচ্ছিন্ন প্রকৃতি মাঝে এই মুর্তীমান রসভঙ্গ টিকে পছন্দ না হওয়ায় নদীর ধারেই টেন্ট খাটিয়ে ছিলাম কাল সন্ধেবেলা। যদিও এখন পিক্ সিজন, তভু অদ্ভুত ভাবে আর একটাই মাত্র পর্টি ক্যাম্প করেছে দেখলাম রাতে। গইড-পোর্টার ছাড়া অবশ্য একজন কেই দেখলাম,দুর থেকে মনে হয়েছিল সাদা চামড়া।
          এই altitude এ মদ্যপান না করাই নিয়ম।কিন্তু এযাত্রায় আমার নিয়ম ভাঙার অঙ্গীকার। অতঃয়েব একটা রমের পাঁইটের এক তৃতীয়াংশ নাবিয়ে, পোর্টারের বানানো অখাদ্য খিচুরী গিলে, স্লিপিং ব্যাগে ঢুকতেই নক্-আউট।
         
                     ভাবিনি ১২টার আগে উঠতে পাড়ব। কিন্তু সকাল সকালই ঘুম ভেঙে গেল। Adrenalin.
                  টেন্ট থেকে বেরিয়ে, বর্শার ফলার মত ঝক্ ঝকে রদ্দুরে ঝলসে ওঠা এক সার পর্বতশৃঙ্গের দিকে তাকিয়ে আড়মোড়া ভাংতে ভাংতে আবার সেই চেনা গন্ধ নাকে আসে। পিছন ফিরে দেখি কাল রাত্তিরের  সেই সাদা চামড়া, মুখ থেকে একটা হাতে পাকানো সিগারেট্ ঝুলছে। বল্লাম:
- Good morning.
- Oh! it's an excellent morning. Would you like a toke?
প্রত্যাখ্যান সুর কেটে দিতে পারে অতঃয়েব হাত বাড়াই।
- Sure, thanks.
- Did you just thanked me!
- Yeah!
- Why?
এই মরেছে!
- Er..... bh.. because you let me smoke  your joint!
- It's a bloody "western hypocrisy" man. Saying thanks for every goddamn insignificant thing. Our great civilisation is like a disease my Friend and Orient is catching it up fast. You better watch out.
যা-আ-আ-ব্বাবা! শালা BJP নাকি! আমার হাঁ বোঝার আগেই দেখি সাহেব পিছন ফিরে জোংড়ী-টপের দিকে হাঁটা দিয়েছে।
- "Hay man, your joint!" আমি চেঁচাই।
- go on, finish it up.

                ঘড়িতে দেখি সকাল ৭.৩০টা। সিগারেট টা অর্ধেকেরও বেশি বাকি। এত সকালে এতটা গাঁজা......বেশ একটু guilty feel হয়। অতঃয়েব ঘড়িটা খুলে পকেটে রাখি। তারপড় একটা বোল্ডার খুঁজে নিয়ে অদ্ভুত লোকটার কথা চিন্তা করতে করতে নিবে যাওয়া jointটা ধড়াই।
           
                           আচ্ছা খ্যাপাটে স্পেসিমেন যাহোক। আদর্শ পাতা খোরের মত চেহারা। দাড়ি, গোঁফ এমন কি মাথার চুল পর্যন্ত কামানো। উঁচু হনু, ভাঙা গাল, চোখের তলায় কালির পোঁচ, চওড়া শক্তিশালি খাঁচা কিন্তু শুকনো শরীরে অত্যাচারের ছাপ স্পস্ট। typical বিতশ্রদ্ধ identity crisis কেস। নামটাও জানা হল না।

             সামনে আকাশের ক্যানভাসে চিত্রিত সার সার পর্বত শৃঙ্গে আলো-ছায়ার স্বর্গীয় পেন্সিল শেড। এর কোনোটা পান্ডিম্, কোনোটা কাঞ্চনজঙ্ঘা, কোনোটা কাবরু, কোনোটা ব্ল্যাক-পিক্, কোনোটা রাংটাং তবে কোন শৃঙ্গের কি নাম তা বলতে পাড়ব না। তাই এলোপাথারি নামকরন করে দিলাম। তাতে অবশ্য তাদের কিছু এল গেল না। সাহস পেয়ে, সামনে দিয়ে বয়ে চলা সুন্দরী নদীটার নাম দিলাম "তন্বী"। সেও দেখি পাথর-টাথর টপকে দিব্যি বয়ে চল্ল। একটু দুরে যে ছোট্ট পাখীটা পাথরের খাঁজে কি যেন খুঁটে খুঁটে খাচ্ছিল তার নাম দিলাম "টুকি"। আর ওই বিচ্ছিরি ট্রেকার্স-হাট টার নাম দিলাম"কিংকর্তব্যবিমূঢ়", দিয়ে অপেক্ষা করে রইলাম, কখন ব্যাটা ভেঙে পড়ে। ধুৎ! ব্যাটা পাত্তাই দিলনা! তারপড় "অবকাশরঞ্জিনী" নাম দেব বলে একটা snow-leopard খুঁজতে লাগলাম এদিক ওদিক। কিন্তু আমার কপালটাই খারাপ, সেবারও সুন্দরবন গিয়ে ৪ দিনের জায়গায় ৭ দিন থেকেও বাঘের লেজের লোমের ডগাটুকুও দেখতে পাইনি। মুন্না দাদা তো সেই দুঃখে আকন্ঠ মদ্ গিলে এক বেচারা কুকুরকে কষে কান মুলে দিয়ে বলে ছিল"এই শালা! তোর বাপ বাঘকে বলে দিবি, আমরা এসেছিলাম।"
       অবশ্য watch-towerএ সক্কলের পূর্বপুরুষের instinct জেগে ওঠায় কিন্চিত বাঁদরামী হয়ে গেছিল বটে। রেঞ্জার সাহেব তো প্রচন্ড রেগে বলেছিলেন "বাঘটা যদি ভদ্দরলোকের ছেলে হয় তাহলে অন্তত তিন মাস এঘাটে জল খাবে না।"

          নিজের মনে হাসতে হাসতে, অবাক হয়ে যাই। কত দিন এমন অকারনে হাসি না। কত দিন নিজেকে বন্দী রেখে ছিলাম নির্বোধ প্রকষ্ঠে। তাই জগতের আনন্দ যজ্ঞে আজ আমার স্বনিমন্ত্রন। আজ ঘাসের এই রাজকীয় কার্পেটে শুয়ে জগতের নিরবিচ্ছিন্ন আনন্দ রাগ আমি আকন্ঠ পান করি। সকাল গড়িয়ে দুপুর হয় দুপুর গড়িয়ে বিকেল। সাঁজের আকাশে স্বাতী, অরুন্ধুতী, অশ্লেষা, কৃত্তিকা, মৃগশিরা, রোহিনী, বিশাখা, শ্রবণা সকলে একে একে জেগে উঠে চাঁদের অপেক্ষায় থাকে। প্রসন্নতা চুঁইয়ে চুঁইয়ে মনের কোন অন্তরতম আধারে জমা হয়, পুনঃআবগাহনের প্রতীক্ষায়।

                                                                           ৫

ট্রেক-রুটে সন্ধের পর সাধারনতঃ কিছু করার থাকেনা। চারপাশে নির্ভ্যাজাল ঘন অন্ধকার নেমে এসেছে। গাইড-পোর্টার দের তাঁবুর পিছন থেকে রান্নার পাঁচ-মেশালি আওয়াজ আর দিশি ডিস্টিলীয়ারীর কড়া গন্ধ ভেসে আসছে। temperature  খুব দ্রুত নেবে গিয়ে হাড় কাঁপিয়ে দিচ্ছে অথচ এত তাড়াতাড়ি টেন্টে ঢুকতেও মন চায় না।

                     দুরে দেখি হিপি সাহেবের ক্যাম্পের পাশে ছোট্ট একটু বন্-ফায়ার জ্বলে ওঠে। এখানে জঙ্গলের কাঠকুটো নিয়ে আগুন জ্বালানো বন-দপ্তরের কড়া নিষেদ। কিন্তু এই "middle of the no where" গহন অরন্যে, কেইবা দেখতে যাচ্ছে। প্রবল সঙ্গ লীপ্সা জাগে মনে। বাবার ক্যাবিনেট থেকে ঝাড়া রাশিয়ান ভদকার বোতোলটা ব্যাগ থেকে বার করে ঐ দিকে রহনা দি।

- Hi. Would you mind if I Join?
সাহেব মথায় রিডিং-টর্চ জ্বেলে একটা মোটা বই নিয়ে বসেছিল, পড়ছিলনা, একদৃষ্টিতে তাকিয়েছিল আগুনের দিকে। আমার আওয়াজ পেয়ে বোধ হয় কোনো সুদুর নক্ষত্র জগত থেকে নেমে আসে।
- Oh! Hallo! No no not at all, please do.
- Look, I know we Indians have absolute disrespect for personal space. But I was aching for some company. Hope you like vodka?
- Ah! its Russian, my favourite poison.
যাক্ বাবা। আমি গুছিয়ে বসে দুটো পেপার কাপে মদ্ ঢালি।
- I'm Rana, by the way.
- Mich.
- So Mich, you are from U.S.A right? probably some southern state.
- Shit man!.... you're good.......! I've never thought somebody from India would recognise my accent.
হুঁ হুঁ বাবা, কমদিন call-centerএ পেছন ঘষেছি? তোমাদের সাদাভূত-কালোভূত,  বেঁটেভূত-ঢ্যাঙাভূত, খ্যাঁদাভূত-বোঁচাভূত সব আমার চেনা হয়ে গেছে। New york, L.A, Afro-American, Canadian সব বুলির বঙ্কিমতা আমার নখ-দর্পনে।সেটাই জানাতে সাহেব হাসতে হসতে বল্ল:
- So you are one of them? Stealing jobs from us.
যাঃ যাঃ! ভারী একবারে job রে। দিনের পর দিন শয়ে শয়ে গান্ডু আমেরিকান কে তাদেরই তৈরী কলকব্জা কি করে নাড়াতে হয় তা ঝুড়ি-কোদাল দিয়ে বোঝাতে হলে কাঁপ তোদের ছটকে যেত। বলি:
- Believe me my Friend. American ear is too delicate  to endure the bottomless stupidity and incessant abuse you have to face in a call-centre. It lack's the "Third World Hardship."
বলতে বলতে মুখটা সম্ভবতঃ তেঁতকুটে হয়ে গেছিল। সাহেব সেটা লক্ষ করে।
- So is that why you're hear, an act of futile escape?

             "futile?" তা হবে। আমি কাঁধ ঝাঁকাই। নিবে আসা আগুনটা উসকে দিয়ে, আরো কটা কাঠ চাপিয়ে দি। সাহেব গাঁজা দিয়ে একটা সিগারেট পাকায়।
-   What are YOU doing here?What's your story?
লাইটার টা অনেক কসরত করে জ্বলে, ঠান্ডায় জমে গেছিল সম্ভবতঃ। Jointটা ধরিয়ে বেশ কয়েকটা টান দিয়ে সাহেব বলে:
- Nothing unusual man. just another pot headed marican on his quixotic quest, lost in his happy delirium that he'll find his spiritual answers in thousands of years old Hindu Scriptures mainly based on unverifiable speculations and his salvation in the mountains of Himalaya. Which also "happens to be" the dope heaven of India. So his spiritual journey eventually metamorphosed into a psychedelic one. The usual clichè you know.
-Wow! And I thought you guy's exists only in a back-packer's novel!
- "Cheer's".সাহেব মুচকি হেসে গ্লাস তোলে।
- Really man! What makes you guy's so gullible to believe that India is less spiritually fucked up! Is it because we clings on to thousands of years outdated way of life?
- Because we're scared. We're "shit scared" of this reality as we become more and more aware of it. Nobody is watching over you. Nothing is predetermined. Your every decision, which you are condemned to take will decided your future. Every nanosecond of your conscious moment have immense significance to shape your life. So you run, you run like hell. Because you've got only one shot, there is no coming back, no existence beyond existence, no metaphysical consolation, there's only "Being and Nothingness." And, That means all your runnings, all your desperate pursuits will end up to nothing.
          We're so horror-stuck with this reality we escape to denial. Seek a alternative in ancient scriptures. Seek a sense of purpose, through God. And ultimately blocked with the fundamental  question. If the God exists why faith is the only way to understand Him, why can't we seek Him through question? Is it because there is no viable answer? Is there any real need for this ambiguity? সাহেব jointটা জোরে জোরে টানতে থাকে।
- Actually, all we wanted to ask, if there is any significance of our minute existence.....Tragedy is somewhere deep down we know the answer. We know.
- And you think the answer is NO!
- What do YOU think?
- Well, what about love? Doesn't it gives life a great purpose to live on?
- Love? সাহেব হাসে।"As sentient beings we need something more than just basics to live on. We need inspiration to live. So our brain produce some abstract decoys as defence mechanism. Like our ability to love, to appreciate beauty, to create art. Which refrain us from questioning our "existence" which is meaningless. Love, my Friend, is just another shackle which keeps you inside the nature's jail, not an escape route."

                      শালা গাঁজা তো শুনেছি মহাদেবের দেহনিশৃত লতা। সে আবার এতটা negativity পয়দা করে নাকি!
 - Look man! All I think, as we do not know everything, nothing is certain. So it's your right to choose your belief. You can easily believe in a omnipotent, omnipresent God with a divine purpose beyond our comprehension, if it helps you in your life.

- Lie is a Godly comfort, indeed.

         ধ্যাৎত্তেরি! শালা তোর nihilism এর নিকুচি করেছে। ধুনকীটা পুরো চটিয়ে দিল। অত purpose জেনে ঘোড়ারডিম আমার হবেটা কি? খিদে মিটবে?
- সাব খানা তৈয়ার হ্যায়। খা'লো ঠান্ডা হো যায়েগা।
- এইযে বাবা এসো। এত বার এত রুপে তুমি দেখা দাও, তভু লোকে বলে তুমি নেই!
- জি? কুছ বোলে কেয়া সাব?
- কুছ নেহি বাবা, চলোঃ। Mich it's late, let's call it a night.
- G'night. সাহেবের হাতটা একবার উঠেই ধপ্ করে পরে যায়।
তার অর্ধচেতন শরীরটা পাশ কাটিয়ে যেতে গিয়ে পাশে রাখা মোটা বইটাতে হোঁচট খাই। The Philosophical Journey Of Mankind. vol v. Oxford Publication.
বাপ্পোঃ!! "You read some heavy stuff man!"
- Naah! Just needed something to wipe my ass with.
শালা, ঝাঁট জ্বলে যায়! বলেই ফেলি:
- Dude, your cynicism is all most pathological ! I would had it looked at, if I were you.
সাহেব হাসে, হাসতেই থাকে। আমিও হাসি। অন্ধকার নেশাতুর পথে সাবধানে পা ফেলে হাঁটতে হাঁটতে অল্প টাল খেয়ে উপলব্ধী করি লোকটার এই অস্তিত্ববাদী গোঙানি আমারই একান্ত নরকের খুব চেনা প্রতিধ্বনী!
                                  " The Unbearable lightness of Being" কুন্দেরার নভেল, পড়ে বিশেষ রস পাইনি কিন্তু title টা দিনের পর দিন হন্ট্ করে গেছে অফিস ফিরতি night-cabএর অন্ধকারে, সহ্যাতিরীক্ত মদ্ কোমোডে উগড়ে দেবার পড়ের ক্লান্ত অবসন্নতায়, উৎসবের ভীড়ে পা মিলিয়ে হাঁটতে হাঁটতে গূঢ়প্রেথীত একাকীত্বের উপলব্ধীতে। আমল দিইনি, অস্বীকার করেছি, পালিয়ে এসেছি এই এত দুরে....কিন্তু কপাল!
         জীবনের এই নাছোরবান্দা attitude এ ক্ষুন্ন হয়ে টেন্টে ফিরি। Dinner এ খিচুরী নাম্বী দুঃস্বপ্নের উপকরন পরিবেশিত হয়। "Materialised dark humour." দেখে হাসিপায়, খেতে খেতে কান্না গিলি। স্লিপিং-ব্যাগে ঢুকতে, ঢুকতে ভাবি, আজ থেকে পাঁচ দিন আগেও, অফিশের বাথরুমে বসে, এবার থেকে অফিশেও গাঁজাটা শুরু করবো কি করবনা সেই নিয়ে মনে মনে ডিবেট করছিলাম আর আজ সারে চার হাজার মিটার পাহাড় ভেঙেও সেই একই বিপন্নতা নেশায় ডোবাচ্ছি। মাঝখান থেকে ফালতু বেগাড় দিলাম। জীবন নামক এই দুঃখজনক ঘটনাক্রম থেকে পালানোর এক মাত্র উপায়, ঘুম। খুব বেশি সাধা সাধি করতে হল না। অবশ্য, অজ্ঞান হয়ে গেলাম কিনা বলতে পারব না।

                                                               ৬

 মহাজাগতিক ঘূর্ণনের ফলে শূন্যে ভাসমান একটি ক্ষুদ্র, এবড়ো খেবড়ো লৌহগোলোকের উঁচু হয়ে থাকা খাঁজের উপড়, আকাশ গঙ্গার কিনারের দিকের একটি মাঝারী নক্ষত্রের ভিতর ঘটে চলা ক্রমাগত পারমানবিক বিস্ফোড়ন থেকে বিচ্ছুরীত আলোর প্রথম আভাস, সেই গোলোকের বাসিন্দা দুটি প্রানকনার ৪০০ কোটী বছড় ধরে বিবর্তিত আত্ম সংরক্ষন চেতনার দ্বারা অভিক্ষিপ্ত সৌন্দর্যবোধ কে বাজাতে বাজাতে ক্রমশ ঝালায় তোলে। জীবনের আকুুল জিজ্ঞাসা গুলোর প্রতি ব্রহ্মান্ডের শীতল উদাসীনতার ভাড় ঝড়ে পড়ে বিশ্ময়ের আনন্দে যা এই চেতনার আরো একটি অভিক্ষেপণ। এভাবেই বিবর্তন এগিয়ে চলে স্রেফ চলার আনন্দের উপলব্ধীতে।
ভোড় চারটে তেইশ, গোচেলা টপের ওপড় বসে আছি দুজনে। স্তম্ভিত।
- Hey Mich!
- Yap?
- We're bloody idiots!
সাহেব হাসে "Fuel-up Sisyphus, tomorrow you have to push the boulder uphill onece again."
আমি হাসি, শুনেছি সিসিফাস দিব্বি আছে।  

                                                  ..........................